ভয়েস অফ গোপালগঞ্জ ডেস্ক,
গোপালগঞ্জের একমাত্র সরকারি মৎস্যবীজ উৎপাদন খামারে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জিত হয়েছে। মানসম্মত মাছের পোনা উৎপাদন ও বিক্রির মাধ্যমে খামারটি ৭ লাখ ৮৭ হাজার ৮০০ টাকা আয় করেছে, যা সম্পূর্ণ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ অর্থবছরে ৭ লাখ ৮৭ হাজার ৮০০ টাকার মাছের পোনা উৎপাদন ও বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রেণু, কার্পজাতীয় এবং পাবদা মাছের পোনা উৎপাদন ও বিক্রি করা হয়েছে।
খামার সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে ১২৭ কেজি রেণু পোনা, ১ হাজার ৩৯১ কেজি কার্পজাতীয় মাছের পোনা এবং ১ লাখ পাবদা মাছের পোনা উৎপাদন করা হয়। এসব বিক্রি করে যথাক্রমে ২ লাখ ৪১ হাজার ৩০০ টাকা, ৩ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা এবং ২ লাখ টাকা আয় হয়েছে। এছাড়া খামারে উৎপাদিত ফলমূল ও শাক-সবজি বিক্রি করে আরও ২০ হাজার টাকা আয় হয়। সব মিলিয়ে মোট আয় দাঁড়ায় ৭ লাখ ৮৭ হাজার ৮০০ টাকা।
গোপালগঞ্জ মৎস্যবীজ উৎপাদন খামারের খামার ব্যবস্থাপক তানজিলা আক্তার নিপা জানান, ১ দশমিক ৬২ হেক্টর আয়তনের এই খামারে রয়েছে ৮টি পুকুর ও একটি হ্যাচারি। চারটি পুকুরে পোনা মজুদ এবং বাকি চারটিতে ব্রুড মাছ সংরক্ষণ করা হয়। ব্রুড মাছ থেকে ডিম সংগ্রহ করে নিজস্ব হ্যাচারিতে মানসম্মত পোনা উৎপাদন করা হয়। উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হয়, ফলে চাষিরা উন্নতমানের পোনা পান।
তিনি আরও বলেন, সরকার নির্ধারিত সাশ্রয়ী মূল্যে এসব পোনা বিক্রি করা হয়। উন্নত মানের হওয়ায় এসব পোনা ব্যবহার করে মাছ চাষে চাষিরা ভালো ফলন ও লাভ পাচ্ছেন।
সদর উপজেলার করপাড়া গ্রামের মৎস্যচাষী হাবিবুল বাহার (৫৯) বলেন, তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে সরকারি এই খামার থেকে পোনা সংগ্রহ করে মাছ চাষ করছেন। এখানকার পোনার মৃত্যুহার কম, বৃদ্ধি ভালো এবং উৎপাদনও সন্তোষজনক হওয়ায় তিনি নিয়মিত লাভবান হচ্ছেন।
একই উপজেলার কাজুলিয়া গ্রামের মৎস্যচাষী কামরুল ইসলাম বলেন, সরকারি খামারের পোনার মান খুব ভালো হলেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। তিনি উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান জানান, যাতে জেলার আরও বেশি মৎস্যচাষী উপকৃত হতে পারেন।
মৎস্য সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি খামারে মানসম্মত পোনা উৎপাদন অব্যাহত থাকলে গোপালগঞ্জে মাছের উৎপাদন আরও বাড়বে এবং জেলার মৎস্যখাত অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে।
মন্তব্য করুন