ভয়েস অফ গোপালগঞ্জ ডেস্ক,
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির অকুতোভয় যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকায় পৌঁছাবে। এরপর সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে নেওয়া হবে—এমনটাই জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর ইনকিলাব মঞ্চের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।
পোস্টে বলা হয়, শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে বহনকারী বিমানটি সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। তাকে শেষবারের মতো গ্রহণ জানাতে এয়ারপোর্ট থেকে শাহবাগগামী সড়কের দুই পাশে সবাইকে সুশৃঙ্খলভাবে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিমানবন্দর থেকে মরদেহ সরাসরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে নেওয়া হবে, যেখানে সর্বস্তরের মানুষ তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, আততায়ীর গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে টানা সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান শরিফ ওসমান হাদি (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ১০টার দিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণ ও গণমানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’।
গতকাল রাত সাড়ে ১১টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে হাদির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ভাষণের শুরুতে তিনি বলেন,
“আমি আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি সংবাদ নিয়ে। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের অকুতোভয় যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি আর আমাদের মাঝে নেই।”
হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পাশাপাশি উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো শোক জানায়।
সরকারের পক্ষ থেকে আজ রাষ্ট্রীয়ভাবে দোয়া মাহফিল এবং আগামীকাল রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।