
ভয়েস অফ গোপালগঞ্জ ডেস্ক,
ভূমিকম্পের ধারাবাহিকতায় রাজধানী ঢাকার বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের নৈকট্য, অপরিকল্পিত নির্মাণব্যবস্থা এবং জনঘনত্ব—সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞরা ঢাকাকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন।
গত শুক্রবার থেকে শনিবার পর্যন্ত প্রায় ৩১ ঘণ্টায় ঢাকা ও আশপাশে চারটি ভূমিকম্প হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল শুক্রবার সকালে নরসিংদীর মাধবদীতে উৎপত্তি হওয়া রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, যা ছিল সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে তীব্র ঝাঁকুনি। এতে শিশুসহ ১০ জন নিহত এবং ৬ শতাধিক মানুষ আহত হন।
শনিবার আরও তিনটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়—সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে ৩.৩ মাত্রা, সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ৪.৩ মাত্রা এবং বাড্ডা এলাকায় ৩.৭ মাত্রার ভূমিকম্প।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পগুলো বড় ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের গত পাঁচ বছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশে এই সময়ে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে মোট ৩৯টি ভূমিকম্প হয়েছে, যার মধ্যে ১১টির উৎপত্তিস্থলই ঢাকার ৮৬ কিলোমিটারের মধ্যে। সর্বোচ্চ মাত্রা ছিল নরসিংদীর ৫.৭ এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের ৫.৬।
একই সময়ে সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্প হয়েছে রাতের বেলায়—২৩টি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাতের সময়ে মানুষ ঘুমিয়ে থাকায় প্রাণহানির ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম জানান, নরসিংদীতে একটি বড় সাব-ফল্ট রয়েছে, যা ঢাকার কাছ পর্যন্ত বিস্তৃত। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পগুলো দেখাচ্ছে, এই ফাটল সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
ভূমিকম্পবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার বলেন, সাবডাকশন জোনে জমে থাকা শক্তির খুব সামান্যই এখন পর্যন্ত বেরিয়েছে। আফটার শকগুলো দেখাচ্ছে যে ফল্ট লাইনে চাপ মুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলছে।
ঢাকার ঝুঁকির চার কারণ
বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক রাকিব হাসান ঢাকার ঝুঁকির কারণ হিসেবে চারটি বিষয় উল্লেখ করেন—
১) উৎপত্তিস্থলের ঢাকার কাছাকাছি অবস্থান
২) নিচু ও নরম মাটি ভরাট করে গড়ে ওঠা নতুন ঢাকার গঠন
৩) ইমারত নির্মাণ বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ না করা
৪) অতিরিক্ত জনঘনত্ব
প্রস্তুতির ঘাটতি
২০১৬ সালে ভূমিকম্প-পরবর্তী জরুরি ব্যবস্থাপনার জন্য ন্যাশনাল অপারেশন সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও তাতে অগ্রগতি হয়নি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সরঞ্জাম সংগ্রহের কাজ চলছে, স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের দুর্যোগ প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়। দুর্যোগ ফোরামের সদস্যসচিব গওহর নঈম ওয়ারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় সরকারকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত না করা, তথ্য ব্যবস্থাপনায় দেরি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা কার্যক্রম না থাকায় বড় ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে।